পরাজয়ের গ্লানি সাথে নিয়ে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করল আমেরিকা

নিউজ ডেস্ক : অনেক আলোচনা, মতানৈক্য এবং টালবাহানার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। এর মাধ্যমে দেশটিতে তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের নাম করে হামলার প্রায় ২০ বছর পর সেখান থেকে সকল সেনা সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করল বাইডেন প্রশাসন।

কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) সিএনএন জানিয়েছে, অস্ত্রসহ প্রায় ১০০ জন সেনাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মে মাস শুরুর আগেই আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবেন বলে কিছুদিন আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই এসব সেনা প্রত্যাহার করা হলো।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ক্যারিন জ্যঁ পিয়েরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘সেনা প্রত্যাহারের কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে সকল মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওযার ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।’ যদিও তালিবান এর আগে হুমকি দিয়েছিল আফগানিস্থান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে মে মাসের শুরু হওয়ার পূর্বে।

দেশটির সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি নিরাপত্তা ঠিকাদার ও মার্কিন সরকারি কর্মীরাও আফগানিস্তান ছাড়তে শুরু করেছেন। এছাড়া সেনা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে সামরিক সরঞ্জামাদি আফগানিস্তানের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো গোষ্ঠীর অভিযানে আফগানিস্তানে তৎকালীন তালেবান সরকারের পতন হলেও তালেবান গোষ্ঠীকে নির্মূল করতে পারেনি তারা। পরিসংখ্যান বলছে, দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের এই যুদ্ধে ২৩৭২ জন মার্কিন সেনা এবং এক লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দীর্ঘতম এই যুদ্ধটির পেছনে দেশটি এ পর্যন্ত ব্যয় করেছে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ ভূখণ্ডের ওপর তালিবানদের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে।

অবশেষে তালেবানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে আফগানিস্তান থেকে সকল সেনা প্রত্যাহার করার উদ্যোগ প্রথম শুরু করেন এবং আফগানিস্তান শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেন গত মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *