Wednesday, July 22, 2026
26.8 C
Kolkata

শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা,বাংলাদেশের ছাগলনাইয়া উপজেলার একটি পর্যটন কেন্দ্রস্থল

সালমান হায়দার খন্দকার,‌‌ বাংলাদেশ প্রতিনিধি, এনবিটিভি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামে ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াই করতে বাঁশের কেল্লা বানিয়েছিলেন তিতুমীর। ইতিহাসের পাতায় লেখা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার কথা সবাই জানে। তবে ভ্রমণপ্রেমীদের অনেকের অজানা, ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ার শুভপুরে পুর গ্রামের বাঁশ দিয়ে তৈরি হয়েছে একটি বাঁশের কেল্লা! এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র। শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা হিসেবে এর পরিচিতি আছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সময়ের ত্রিপুরার রাজা শমসের গাজীর নামে রিসোর্টটির নামকরণ হয়।

শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা যেন নিবিড় পল্লীতে স্বপ্নের মতো নান্দনিক নির্মাণশৈলী। ঘরোয়া পরিবেশে থাকা-খাওয়া বা অবসরে ঘুরে বেড়ানো অথবা ছুটি কাটানোর জন্য এটি জুতসই। এখানে যেমন পিকনিক আয়োজন করা যায়, তেমনই বারবিকিউ পার্টি করার সুয়োগ রয়েছে। এছাড়া আছে পাঠকক্ষ, মেহমানখানা ও চা কর্নার।

প্রায় ৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লায় ঢুকতেই চোখে পড়বে ‘ঐকতান’ নামের একটি ঢোলক, তবলা, হারমোনি ও একতারা সংবলিত ভাস্কর্য। ভেতরেও বাংলার লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণ রাখা হয়েছে। সাহিত্য আড্ডা কিংবা যেকোনও মুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রিসোর্টের বাইরে রয়েছে শৈল্পিক আবহ। বাগানের পাশের খোলা আঙিনার ধারে বাঁশের মাচায় পার্বত্য জেলার ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি ঘরের ছোঁয়া মিলবে।

রিসোর্টের ফলগাছের বাগানে রয়েছে বসার ছোট ছোট বেঞ্চ। রিসোর্ট ঘুরে ক্লান্তি এলে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া যাবে। অন্যপাশে লেকের পানিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে আসন পাতা নৌকা। বৈঠা দিয়ে এটি চালাতে হয়।

পর্যটন কেন্দ্রটি থাইল্যান্ড ও জাপানের বিভিন্ন শৈল্পিক রেস্টহাউসের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। এর নকশা করেছেন কানাডার লুই ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য প্রকৌশলী সুরাননা। এশিয়া অঞ্চলের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই তিনি এটি ডিজাইন করেছেন।

রিসোর্টটি তৈরির জন্য টাঙ্গাইলের মধুপুর ও পার্বত্য এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের বাঁশ সংগ্রহ করা হয়। বড় আকারের বাঁশগুলো মধুপুর আর ছোট আকৃতির বাঁশ (মুলি বাঁশ) খাগড়াছড়ির পার্বত্য অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল।

বাঁশের কেল্লায় ছুটির দিনে একসঙ্গে প্রায় ২০০-৩০০ ভ্রমণপ্রেমী ঘুরতে পারবেন। পারিবারিক আবহে কাটবে দিনরাত। গরমেও আরাম-আয়েশে থাকা যাবে। সবসময় শীতল থাকা পাঁচ কক্ষের রিসোর্টটির সিঙ্গেল বেডের ভাড়া ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। আর ডাবল বেড ৭০০০ টাকা। রিসোর্টের ভেতরে প্রবেশে অনাবাসিকদের খরচ হবে মাত্র ২০ টাকা। পর্যটকদের খাবারের জন্য রয়েছে ঘরোয়া পরিবেশের ক্যান্টিন।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories