সৌদি আরবের মক্কা থেকে মদিনাগামী ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তেলেঙ্গানার ৪৫ জন যাত্রীর পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে হায়দরাবাদের আরজিআই বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মোট ৩৫ জন স্বজন ওই দলে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন তেলেঙ্গানা সরকারের তিনজন প্রতিনিধি,সংখ্যালঘু কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, বিভাগের প্রধান সচিব বি. শাফিউল্লাহ এবং এআইএমআইএম বিধায়ক মজিদ হুসেন।
রাজ্য সরকার নিহতদের আত্মীয়দের যাত্রার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করেছে। নামপল্লীর হজ হাউস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত তাদের পরিবহনের দায়িত্ব ছিল তেলেঙ্গানা হজ কমিটির। সেখানে পৌঁছে তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করবেন এবং সনাক্তকরণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। সৌদি প্রশাসন মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে মৃতদেহগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে।
দুর্ঘটনায় নিহত সবাইকে সৌদি আরবের মদিনার বিখ্যাত জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হবে। প্রথমে মৃতদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করা হলেও বাস্তবে সৌদি আরবের কঠোর আইন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে তা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ সরাসরি দেওয়া হয় না, পুলিশ তদন্তে ট্যাঙ্কার চালক বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দোষ প্রমাণিত হলে তবেই পরিবার ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে পারে, যা সম্পূর্ণ হতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।
কংগ্রেস নেতা ওসমান মোহাম্মদ খান জানিয়েছেন, মৃতদের স্বজনেরা সৌদি আরবে গিয়ে উমরাহও পালন করবেন। উল্লেখ্য, ৯ নভেম্বর হায়দরাবাদ থেকে জেদ্দায় পৌঁছানো ওই দলটি উমরাহ সম্পন্ন করে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২৩ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। ৫৪ জনের মধ্যে চারজন আলাদা ভাবে গিয়েছিলেন এবং চারজন মক্কায় ছিলেন। বাকি ৪৬ জন একটি বাসে মদিনার দিকে রওনা হলে, রাত দেড়টার সময় মুফরিহতের কাছে বাসটি একটি ডিজেল ট্যাঙ্কারের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। ভয়াবহ আগুনে ৪৫ জনের মৃত্যু ঘটে। শুধু মোহাম্মদ আব্দুল শোয়েব নামক একজন জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে ৬৫ বছরের শেখ নাসিরউদ্দিনের পরিবার থেকে একই বাসে থাকা ১৮ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।


