এসআইআর নিয়ে ফেসবুকে করা সচেতনতামূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি জানান, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে কয়েকটি ঘটনায় পুলিশ যেভাবে আচরণ করেছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, “মানুষ যদি সচেতনতা বাড়াতে পোস্ট করে, তাতে দোষ কোথায়? পুলিশ যদি রাজনৈতিক কাজ করতে চায়, তা হলে সরাসরি আমাদের কাছে আসুক, অন্যের হয়ে প্রভাব খাটাবেন না।”
তিনি জানান, দেশের ১২টি রাজ্য ও কয়েকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন এসআইআর সংক্রান্ত কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ার পর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর দাবি, একজন বৈধ নাগরিকের নামও যদি বাদ যায়, তাহলে রাজ্য জুড়ে বড় আন্দোলন হবে। মানুষকে সাহায্য করতে জমিয়ত বিভিন্ন জেলায় হেল্প ডেস্ক চালু করেছে, যেখানে ফর্ম পূরণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর মতে, এসআইআর ঘিরে ভয় ও সংশয় তৈরি হয়েছে মূলত আলোচনা ছাড়া প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায়। নির্বাচন কমিশন যদি আগে রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠক করত, তবে এই আতঙ্ক অনেকটাই কমানো যেত। তিনি ভোটাধিকার রক্ষায় সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফর্ম জমা দেওয়া, বিএলও-র রসিদ সংগ্রহ করে রাখা, সবই অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি, মৃত আত্মীয়ের বদলে জীবিত আত্মীয়ের নাম উল্লেখ করলে ভবিষ্যতে সমস্যা এড়ানো যায় বলেও জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, একবার ভোটারের তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই খসড়া তালিকা থেকে শুরু করে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত মূল তালিকা না আসা পর্যন্ত নজর রাখা প্রয়োজন। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী আরও জানান, বিশেষ করে আদিবাসী, পরিযায়ী শ্রমিক, চা-বাগান কর্মী, গৃহহীন এবং ভবঘুরেদের তালিকাভুক্ত করতে কমিশনকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। বৈধ ভোটার বাদ গেলে জমিয়ত কঠোর আন্দোলনে নামবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।


