উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় জাতিগত বিদ্রূপের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ত্রিপুরার ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪)। তিনি ত্রিপুরার উনকোটি জেলার বাসিন্দা এবং দেরাদুনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এমসিএ চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৯ ডিসেম্বর বাজার থেকে ফেরার সময় অভিযুক্তদের সঙ্গে বচসার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় অ্যাঞ্জেল তার ভাই মাইকেল চাকমার সঙ্গে মুদিখানা কিনতে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, স্থানীয় ছয় যুবক তাদের লক্ষ্য করে জাতিগত কটূক্তি করেছিল। মাইকেল প্রতিবাদ করলে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অ্যাঞ্জেলকে ছুরি দিয়ে মাথা ও পিঠে আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানান, ছুরির আঘাতে স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১২ ডিসেম্বর মাইকেল চাকমার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে। তদন্তে উঠে আসে অভিযুক্তদের নাম—অবিনাশ নেগি, সুরজ খ্বাস, সুমিত কুমার, শৌর্য, আয়ুষ বদোনি এবং যজ্ঞ্য আওয়াস্থি। পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্ত যজ্ঞ্য আওয়াস্থি ঘটনার পর থেকেই পলাতক। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সে নেপালে পালিয়ে গেছে এবং তাকে ধরতে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। তার মাথার দাম ২৫ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
অ্যাঞ্জেলের মৃত্যুর পর মামলায় খুন ও সাধারণ উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের ধারা যোগ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের সব জেলায় বিশেষ নর্থইস্ট সেল সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ত্রিপুরার টিপরা মোথা দলের চেয়ারম্যান প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহত ছাত্রের দেহ ত্রিপুরায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


