পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজ্যের নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি। সেই তালিকায় এবার নোটিস পৌঁছেছে কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ভারত সেবাশ্রম সংঘের একাধিক সন্ন্যাসীর কাছেও। জানা গেছে, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন সন্ন্যাসীকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে।
সেবাশ্রমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সন্ন্যাসীরা বহু বছর ধরেই ওই আশ্রমে বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেই দাবি করেছেন, ১৯৭৭ সাল থেকেই তাঁরা এখানে আছেন এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। তবুও ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত প্রশ্ন ওঠায় তাঁরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিচ্ছেন।
স্বামী চৈতন্যনন্দ জানান, যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কাছে পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টিকে হেনস্থা হিসেবে দেখছি না। দেশের নিয়ম অনুযায়ী যা করতে বলা হবে, সেটাই করব।”
সন্ন্যাসীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও একটি দিক—মানবসেবাই তাঁদের জীবনের মূল লক্ষ্য। স্বামী চৈতন্যনন্দের কথায়, “আমরা রাজনীতি করি না, আমরা মানুষের সেবা করি। নিয়ম সবার জন্য সমান। আমরা সাধু হলেও আগে ভারতীয় নাগরিক।”
এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে SIR প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ এবং তার মানবিক দিক। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একটি জায়গায় বসবাস করছেন, সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রেও যদি এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে।
ভোটার তালিকা সংশোধন যে একটি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, তা মেনেও প্রশ্ন উঠছে—এই প্রক্রিয়া চালাতে গিয়ে মানুষের জীবন, পরিচয় এবং দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের অনুভূতির দিকে কতটা সংবেদনশীল হওয়া হচ্ছে।


