চুড়ি বিক্রি করেই কোনওরকমে সংসার চলত নুরপুরের নূরজাহান বিবির । কিন্তু শেষ কয়েক দিন তাঁর চোখেমুখে ছিল শুধু ভয়—“আমার ছেলে-মেয়েদের কী হবে?” সেই ভয়ই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল ৬৯ বছরের এই বৃদ্ধার প্রাণ।
পরিবারের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক হিয়ারিং নোটিশ আসার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন নূরজাহান বিবি। ছেলে, মেয়ে, জামাই ও নাতি—প্রায় সকলের নামেই নোটিশ পৌঁছয়। কোথাও নামের মিল নেই, কোথাও বাবার নাম নিয়ে বিভ্রান্তি—নোটিশের ভাষা বুঝতেই পারছিলেন না গ্রামের সাধারণ মানুষ।
পরিবার জানায়, নূরজাহান বিবির আগে থেকে কোনও বড় রোগ ছিল না। কিন্তু নোটিশ আসার পর থেকে ঘুম উধাও হয়ে গিয়েছিল। মাঝেমধ্যেই আতঙ্কে বলতেন, “আমরা কি এ দেশেই থাকতে পারব না?” শনিবার গভীর রাতে আচমকাই বুকে ব্যথা ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোক। প্রতিবেশীরা জানান, নূরজাহান বিবি ছিলেন খুবই সাধারণ, শান্ত স্বভাবের মানুষ। কখনও কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়াননি। অথচ কাগজের জটিলতায় আর অজানা ভয়েই তাঁকে প্রাণ দিতে হল—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে নূরপুরের অলিতে-গলিতে।
ঘটনার পর সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে গ্রামে গিয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করা হয়। নেতারা জানান, এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কিছু নেই এবং পরিবারটির পাশে দল থাকবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক চক্রান্ত বন্ধের দাবিও তোলা হয়।
নূরজাহান বিবির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়—এটি আতঙ্কের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের ভেঙে পড়ার এক নির্মম ছবি বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।


