ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চূড়ান্ত হয়রানির অভিযোগ তুলে উত্তাল উলুবেরিয়া দক্ষিণ বিধানসভা এলাকা। এক একটি বুথে যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১১০০, সেখানে ৭০০ থেকে ৮০০ জনের নামে একসঙ্গে হিয়ারিং নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আচমকা এই নোটিশে আতঙ্কে ভুগছেন সাধারণ মানুষ—দিনমজুর, গৃহবধূ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে শুরু করে যুবকরাও।
এলাকাবাসীর দাবি, যাঁরা বছরের পর বছর ভোট দিয়ে আসছেন, এমনকি ১৯৭২ সাল থেকে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদেরও হিয়ারিংয়ের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অনেক প্রবীণ মানুষ বিস্ময়ের সঙ্গে প্রশ্ন তুলছেন—“পাঁচ দশক ধরে ভোট দিচ্ছি, হঠাৎ করে আজ আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন?”
উলুবেরিয়া দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকদের বসবাস রয়েছে। রাজ্যের বাইরে কাজ করতে যাওয়া বহু শ্রমিক পরিবারের অভিযোগ, তাঁদেরই বেশি করে টার্গেট করা হচ্ছে। কাজের খোঁজে বাইরে থাকাকালীন সময়ে বাড়িতে নোটিশ পৌঁছচ্ছে, ফিরে এসে দেখা যাচ্ছে পরিচয় প্রমাণের জন্য বারবার হাজিরা দিতে হবে। এতে কাজ হারানোর ভয়, সংসার চালানোর অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে চরম মানসিক চাপে রয়েছেন তাঁরা।
কারও নামে বানান ভুল, কারও বাবার নামের সামান্য গরমিল, আবার কারও ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাজিরার নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিশের ভাষা বুঝতে না পেরে বহু মানুষ ভয় পাচ্ছেন—ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে কি না, তা নিয়েই মূল আতঙ্ক। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে এই ভয় আরও গভীর।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বুধবার উলুবেরিয়ার ললিতাগড়ি মোড়ে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে অবরোধে বসেন। অবরোধে অংশ নেওয়া মানুষজন জানান, “আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। তাহলে একসঙ্গে এত মানুষের নামে হিয়ারিং কেন?” তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের চরম অপদার্থতা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির ফলেই সাধারণ মানুষকে এমন হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, এত বড় সংকটের সময়েও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। অনেকের প্রশ্ন—“যদি আমরা এতদিনের ভোটার হয়েই থাকি, তাহলে বারবার প্রমাণ দেওয়ার দায় আমাদের কেন?তাহলে কি আগের সমস্ত ভোট অবৈধ ছিল ? আর যদি আমার ভোট অবৈধ হয় তাহলে আমার ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি, সরকার সবাই কি অবৈধ?”
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে এই গণহারে পাঠানো হিয়ারিং নোটিশ প্রত্যাহার না হলে , নির্বাচন কমিশন দায়িত্ববোধের সাথে কাজ না করলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।


