পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে শতাধিক জীবিত এবং ভোটদানের যোগ্য নাগরিকের নামে ৭ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম অমিত মণ্ডল। আদালতের নির্দেশে তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। অমিত মণ্ডল তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পিতুলসাহা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অমিত মণ্ডল তমলুকের পদুমবসান এলাকার ২৪২ নম্বর বুথের ৩৪৩ জন ভোটারের নামে ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগ, এই তালিকায় অধিকাংশ ভোটার জীবিত, এলাকায় নিয়মিত বসবাসকারী এবং ভোটদানের যোগ্য। বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, ফর্মগুলির মধ্যে ছিল সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও আসফাক আলি বেগের মা, ভাই ও বোনের নামও।
পরিবারের সদস্যদের নামে ফর্ম জমা দেওয়ার খবর পেয়ে আসফাক আলি বেগ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন এবং থানায় এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অমিত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর বিএলও আসফাক আলি বেগ জানান, “আমার পরিবারের সদস্যদের নামে ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে, অথচ তারা সকলে এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভোটদানের যোগ্য।” অন্যদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতা সুকান্ত চৌধুরী বলেন, “এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৭ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়া কমিশনের অনুমোদিত পদ্ধতি। গ্রেফতার কেন করা হলো, তা পুলিশ ব্যাখ্যা করবে।”
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ৭ নম্বর ফর্ম মূলত কোনো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ দেওয়ার বা স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে জীবিত এবং বৈধ ভোটারের নামে ফর্ম জমা দেওয়াকে প্রশাসন আইনত গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছে। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি বৈধ ভোটারের নামে এমন ফর্ম জমা দেওয়া হয়, তবে এর দায় কে নেবে এবং ভোটের নৈতিকতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


