এসআইআর নোটিশকে কেন্দ্র করে লাগাতার মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রামপুরহাটে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।গত ১৯ জানুয়ারি রামপুরহাট পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের গদাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৩৭ বছরের জনি শেখ আত্মহত্যা করেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি এসআইআর সংক্রান্ত একটি নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে না পারার আশঙ্কা থেকেই তিনি ভেঙে পড়েন বলে দাবি পরিবারের।জনি শেখের বোন পুরূপ বিবি জানান, ঘটনার দিন দুপুরে তার সঙ্গে কথা বলার সময় জনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ওয়ার্ডে বহু মানুষ শুনানির নোটিশ পেয়েছেন এবং তিনি জানেন না, নিজের কী হবে। কিছুক্ষণ পর ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করেন। দীর্ঘ সময় সাড়া না মেলায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে দরজা ভেঙে পুলিশ তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।এলাকাবাসীদের দাবি, জনি শেখ অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। পেশায় হকার হলেও তার নিজের কোনও জমি বা বাড়ি ছিল না। আগে রেলওয়ের জমিতে থাকতেন, উচ্ছেদের পর ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। আধার ও ভোটার কার্ড ছাড়া অন্য কোনও কাগজপত্র তার কাছে ছিল না। পড়াশোনা না করায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ছিল না।এই ঘটনার আগেও রামপুরহাটের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কাঞ্চন মণ্ডল এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্কের মধ্যেই প্রাণ হারান। একইসঙ্গে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন আবাসিকরাও নোটিশ পেয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। জনি শেখের পরিবার জানায়, তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব ও ব্যাখ্যা চাইতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসআইআর সংক্রান্ত মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিও সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
Popular Categories


