উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতপাত ও বিভিন্ন সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য রুখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) যে নতুন নিয়ম জারি করেছিল, তার কার্যকর করা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে হওয়া শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে না দেখলে সমাজে বিভাজন আরও বাড়তে পারে।
গত ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা ও বৈষম্য প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত একটি নতুন বিধি প্রকাশ করে। ওই নিয়মে বলা হয়েছিল, দেশের সব কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বিধি মানতে হবে। তবে এই নিয়মে অসংরক্ষিত বা জেনারেল ক্যাটাগরির পড়ুয়াদের জন্য অভিযোগ জানানোর স্পষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় তা নিয়ে আপত্তি ওঠে। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। শুনানির সময় বিচারপতিরা বলেন, নিয়মগুলি আপাত ভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু ধারার মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। বিশেষ করে বৈষম্যের সংজ্ঞা নিয়ে একাধিক ধারা পরস্পরের সঙ্গে মেলে না। কোথাও বৈষম্যকে শুধুমাত্র জাত ও উপজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, আবার অন্য ধারায় ধর্ম, লিঙ্গ, জন্মস্থান, শারীরিক অক্ষমতা-সহ নানা দিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে কারা অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং কোন ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য হবে, তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। আদালত আরও জানায়, এই ধরনের নিয়ম তাড়াহুড়ো করে চালু করলে উচ্চশিক্ষার পরিবেশে ভুল বার্তা যেতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ কিংবা বিভিন্ন অঞ্চলের পড়ুয়াদের নিয়ে বিদ্রূপ, র্যাগিং বা সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে যে সমস্যা আজও রয়েছে, তা নতুন করে বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এই অবস্থায় ইউজিসি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠিয়ে আদালত নিয়মটির রূপায়ণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে এই বিষয়ে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।


