Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অজুহাতে শুনানিতে তলব কলকাতায় বসবাসকারী ৩১ হাজারের বেশি মুসলিমকে

কথা দিও কথা রাখল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! প্রশ্ন উঠছে কোথায় যাবে বাংলায় বসবাসকারী অসহায় দরিদ্র মুসলিমরা। বাংলার সাধারণ মানুষদের রাস্তার মাঝে এখন দুইদিকেই খাই। একদিকে নির্বাচন কমিশনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-এর নামে হয়রানি। অন্যদিকে, রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুসলিমদেরকে দেওয়া সুরক্ষার আশ্বাসে অনিশ্চয়তা।

রাজ্যে ভোটার SIR এখন জোর কদমে চলছে। এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীরাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এরই মধ্যে একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে চাঞ্চল্য আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র, ভবানীপুর ও বালিগঞ্জে অস্বাভাবিক হারে মুসলিম ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। একটি গবেষণা সংস্থার সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে বহু সংখ্যালঘু ভোটারকে তলব করা হয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে মোট ১৫,১৪৫ জন ভোটারের মধ্যে ৭,৮৪৬ জন মুসলিম ভোটারকে ডাকা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৫২। অন্যদিকে বালিগঞ্জে ৩০,০০৮ জনের মধ্যে ২৩,২৫৬ জন সংখ্যালঘু ভোটার নোটিস পেয়েছেন, যা প্রায় ৭৮ শতাংশ। গবেষকদের বক্তব্য, এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যার অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অশীন চক্রবর্তী জানান, অনুপস্থিত বা স্থানান্তরিত হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের মধ্যে মুসলিমদের হার তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় সেই হার হঠাৎ করেই বেড়ে যাচ্ছে। ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে এই ফারাক স্পষ্ট হয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতের অভিযোগ মানতে নারাজ। কমিশনের এক আধিকারিক জানান, ভোটার তালিকায় ধর্মের কোনও উল্লেখ থাকে না এবং ধর্মভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণও করা হয় না।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত তালিকার সময়সীমার মেয়াদ বাড়িয়ে ২৮সে ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যে প্রশ্ন তোলা শুরু করে দিয়েছে, কেন বেছে বেছে শুধুমাত্র বাংলার অসহায় মুসলিমদের, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’- এর নামে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে প্রতিবাদ করলেও, দিনের শেষে বাংলার মুসলিমদের হেনস্থার স্বীকার হাওয়া থেকে রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে দাবি নানান মহলের।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories