রাজ্যে সম্প্রতি ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশের পর বহু মানুষের নাম নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার পর দেখা যায়, প্রায় ১.২৪ কোটি মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠছে—পরিযায়ী শ্রমিক, মহিলা, প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষ থেকে শুরু করে নানা পেশার বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা ‘বিচারাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এসেছে কোচবিহারের দিনহাটার দুই ভাইয়ের ঘটনা। দিনহাটা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরদৌস আহমেদ ও তাঁর দাদা ফারুক আহমেদ—দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। অথচ নতুন ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রাখা হয়েছে ‘বিচারাধীন’ তালিকায়।
জানা গেছে, ফিরদৌস আহমেদ ২০১৭ সাল থেকে সিআরপিএফ-এ কর্মরত এবং বর্তমানে কলকাতায় কর্মসূত্রে রয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর দাদা ফারুক আহমেদ ২০০৪ সাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করছেন এবং বর্তমানে পাঞ্জাবে পোস্টেড। সার প্রক্রিয়ার শুনানির সময় কর্মসূত্রে দু’জনেই বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সময় তাঁদের বাবা প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত দুই ভাইয়ের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থেকে যায়।
সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে এসে ‘বৈধ ভোটার রক্ষা মঞ্চ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিরদৌস। তাঁর কথায়, “খুব খারাপ লাগছে। দেশের নিরাপত্তার জন্য আমরা জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত। অথচ নিজের দেশের ভোটার তালিকাতেই আমাদের নাম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এবার আদৌ ভোট দিতে পারব কি না, সেটাও জানি না।”
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে নাগরিকত্বসহ সমস্ত নথিপত্র খুব কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সব প্রমাণ দেখিয়েই তিনি এবং তাঁর দাদা সেনায় যোগ দিয়েছেন। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর আবেদন—সব নথি জমা দেওয়ার পরও কেন তাঁদের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হোক।
এই ঘটনা ঘিরে এলাকায়ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দেশের সুরক্ষায় কাজ করা দুই সেনাকর্মীর ভোটাধিকার নিয়েই যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে বলে মত স্থানীয়দের।


