Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা, ইরান–আমেরিকা দ্বন্দ্বে উদ্বেগ বাড়ছে!

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। পারস্য উপসাগর ঘিরে সাম্প্রতিক কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান প্রকাশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। এই ঘটনাগুলির জেরে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

তেহরানের দাবি, বর্তমান সংঘাত কেবল সামরিক উত্তেজনার বিষয় নয়। তাদের মতে, এটি মূলত দেশের স্বাধীনতা ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও তার ঘনিষ্ঠ দেশগুলো বিভিন্ন উপায়ে ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হল দেশটিকে দুর্বল করে দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ভৌগোলিকভাবে ভাগ করে ফেলা। তেহরানের ধারণা, এমনটি ঘটলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের বিশাল তেল ও গ্যাস সম্পদের উপর সহজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। সেই কারণেই নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামরিক হুমকির মতো নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ইরানের অভিযোগ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালীন সময়েই আমেরিকা ও তার সহযোগীরা সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে। তার মতে, এতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে পশ্চিমা শক্তিগুলোর আসল উদ্দেশ্য ইরানের অবস্থান দুর্বল করা। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই তা নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও কয়েকটি হামলার খবর সামনে এসেছে। ইরানের সামরিক সূত্র দাবি করেছে, যেসব স্থাপনা থেকে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে, সেগুলোকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা চাপ ও উসকানির প্রতিক্রিয়া। ইরানের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় কিছু দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি শক্তিকে ঘাঁটি তৈরি করার অনুমতি দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত থাকবে, তাদেরও দায় নিতে হবে।

অন্যদিকে, বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা বাপকো জানিয়েছে যে সাম্প্রতিক হামলার জেরে তাদের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। এতে তেল সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের শাইবাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ড্রোন উড়ে আসার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যাওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তেহরান আবারও দাবি করেছে, তারা কোনও যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে দেশের উপর আঘাত এলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা আরও বড় সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories