মালদা শহরে মঙ্গলবার নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের উদ্যোগে একটি বড় প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ মালদা মুক্তমঞ্চে জড়ো হতে শুরু করেন। সেখান থেকেই মিছিল শুরু হয়ে ইংরেজবাজার থানার সামনে দিয়ে রাজ হোটেল হয়ে ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত এগিয়ে যায়।
মিছিলে জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে বহু মানুষ অংশ নেন। ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষেরও অংশগ্রহণ দেখা যায়।
প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াচক কলেজের অধ্যক্ষ ড. নাজিবর রহমান, অধ্যাপক ড. ইসমাইল, অধ্যাপক ড. শামসুল হক, অধ্যাপক ড. অলিউল্লাহ, সমাজকর্মী বিপ্লব ভট্টাচার্য, পাশারুল আলম, মোসারেকুল আনোয়ার, মতুয়া সংঘের জেলা সভাপতি ডিগেন্দ্র নাথ অধিকারী, ড. জীবন কুমার সরকার, শেরশাবাদিয়া বিকাশ পরিষদের মালদা জেলা সভাপতি আরাফাত আলি, চিকিৎসক ডা. হেফজুর রহমান ও শিল্পপতি আজিজুর রহমানসহ আরও অনেকে।
ফোয়ারা মোড়ে পৌঁছে মিছিল শেষ হলে সেখানে সংক্ষিপ্ত সভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা জানান, এসআইআর সংক্রান্ত চলমান যাচাই প্রক্রিয়াকে ঘিরে জেলার বহু এলাকায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নয়, বিভিন্ন স্তরের শিক্ষিত ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালদা জেলার কয়েকটি বিধানসভা এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের নাম বর্তমানে যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। চাঁচল এলাকায় প্রায় ৭৩ হাজারের বেশি, হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রায় ১২ হাজার, মালতিপুরে প্রায় ৯৮ হাজার, রতুয়ায় এক লক্ষেরও বেশি এবং সুজাপুরে প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোটারের নাম এই তালিকায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই অঞ্চলগুলির অধিকাংশই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য।
সভায় বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, বহু মানুষ যদি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নাম এখনও কেন যাচাই তালিকায় রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা কাজ করার পরও হঠাৎ করে এত সংখ্যক ভোটারের নাম নতুন করে যাচাইয়ের আওতায় আসা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায় এবং বিচারাধীন তালিকার বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ঘোষণা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তর বা বিভিন্ন প্রকল্পে এই তালিকাভুক্ত মানুষদের যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেই দাবিও তোলা হয়।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে জেলা প্রশাসনিক ভবনে যান। জেলাশাসক বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় তিনি দেখা করতে পারেননি। পরে অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে ডেপুটেশন গ্রহণ করেন। প্রতিনিধিরা জানান, নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা উচিত।


