অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-কে নিয়ে সাধারণত রাজনৈতিক কৌশলের জন্যই বেশি আলোচনা করা হয়। জোট গঠন, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানো কিংবা নতুন কৌশল তৈরি—এসব ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা নিয়ে অনেকেই কথা বলেন। কিন্তু এবার তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক বিষয় নিয়ে একটি অদ্ভুত তথ্য সামনে এসেছে, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৬ সালের ২০ মার্চ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, এখনও তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেবজিত সাইকিয়া-র কাছে ২ লক্ষ টাকা ধার রয়েছে। এই তথ্য নতুন নয়—২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৬—তিনটি নির্বাচনেই একই পরিমাণ ঋণের উল্লেখ দেখা গেছে। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরেই এই ঋণ অপরিবর্তিত রয়েছে।
দেবজিত সাইকিয়া শুধু মুখ্যমন্ত্রীর বন্ধু নন, তিনি বর্তমানে অসম সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এত গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও, এই ঋণ ফেরত দেওয়া নিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কোনও তৎপরতা লক্ষণ করা যায়নি বলেই মনে করছেন অনেকেই।
মুখ্যমন্ত্রীর মাসিক বেতন ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১.৬০ লক্ষ টাকার মতো আয় হয়। সেই হিসেবে দেখা যায়, আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় করলেই খুব সহজেই এই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব ছিল। তবুও বছরের পর বছর এই ঋণ একইভাবে থেকে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, তাঁর স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা-র নামেও একই ব্যক্তির কাছে ১ লক্ষ টাকা ধার রয়েছে। এই ঋণের কথাও একাধিক হলফনামায় ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৩ লক্ষ টাকা।
এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে খানিকটা কৌতুকের সুরে আলোচনা হলেও, অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েও দেখছেন। সাধারণ মানুষের কাছে যেখানে সামান্য ঋণও দ্রুত শোধ করার চাপ থাকে, সেখানে একজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক নেতার দীর্ঘদিন ধরে একই ঋণ অপরিশোধিত থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে দেবজিত সাইকিয়া কখনও এই টাকা ফেরত চেয়ে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনাটি এখন রাজনৈতিক মহলে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবেই শিরোনামে রয়েছে।


