Sunday, September 6, 2026
28 C
Kolkata

রবিবার পালিত হল ঐতিহ্যবাহী আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস

রবিবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর নিউটাউন ক্যাম্পাসে ১৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়। এই উপলক্ষে ক্যাম্পাস জুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রী ও গবেষকরা নিজেদের তৈরি নানা প্রকল্প ও গবেষণার কাজ নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। সেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সমাজবিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ের কাজ তুলে ধরা হয়। উপস্থিত অতিথিরা সেই প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং পড়ুয়াদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল ইসলাম-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ এবং আরও অনেক শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক কর্তা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যা এই আয়োজনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য রফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনটি ক্যাম্পাসের পরিকাঠামো আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন হস্টেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বাইরে থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা হয়। পাশাপাশি নিউটাউন ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবন ও একটি বড় অডিটোরিয়াম নির্মাণের কথাও তিনি বলেন। পড়াশোনার মান উন্নত রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শিক্ষক নিয়োগের ওপরও জোর দেন তিনি। ইতিমধ্যে এমবিএ-সহ একাধিক নতুন কোর্স চালু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন বিষয় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান।

আহমদ হাসান ইমরান তাঁর বক্তব্যে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটির শিকড় বহু পুরনো এবং এর ঐতিহ্য অনেক গভীর। অতীতে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, লাইব্রেরিতে উন্নত বই সংযোজন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষ কোচিং চালুর মতো পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পরিকাঠামোর প্রশংসা করেন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, পড়াশোনার মান বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। একইভাবে আশুতোষ ঘোষ বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য দক্ষ শিক্ষক ও উৎসাহী ছাত্রছাত্রী—এই দুই-ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, সমাজে সম্প্রীতি ও একতার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রী এখানে একসঙ্গে পড়াশোনা করে, যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনাকে শক্তিশালী করে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories