উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলায় এক প্রবীণ মুসলিম ফেরিওয়ালাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ২ মে বিকেলের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে।
আহত ব্যক্তি মকসুদ আলি, যিনি দেরওয়া এলাকার বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি ব্যবসার কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ একটি গ্রাম পেরোনোর সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি তার পথ আটকায়। অভিযুক্তের নাম মনোজ বলে জানা গেছে।
অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই ওই ব্যক্তি মকসুদ আলির উপর চড়াও হয়। প্রথমে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এরপর তার দাড়ি টেনে ধরা হয় এবং মাথার টুপি খুলে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মকসুদ আলির অভিযোগ, হামলাকারী ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে এবং তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। এমনকি পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথাও বলা হয়। হামলার পাশাপাশি তার কাছ থেকে দিনের রোজগারের প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার সময় আশেপাশে কেউ না থাকায় তিনি অসহায় অবস্থায় পড়েন। পরে আরেকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসতেই হামলাকারী সরে পড়ে। তখনই কোনোরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। বাড়ি পৌঁছনোর পর পরিবারের লোকজন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
এরপর স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন মকসুদ আলি। তবে তার দাবি, এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তিনি হতাশা প্রকাশ করে জানান, তিনি একজন গরিব মানুষ, প্রতিদিন কাজ না করলে সংসার চালানো কঠিন। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, তা নিয়েই তিনি চিন্তিত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।


