কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে এবার সরব হল মুসলিম সংগঠনগুলির একাংশ। সংখ্যালঘুদের জন্য নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রায় ৪৮টি মুসলিম সংগঠনের একটি যৌথ মঞ্চ। বেঙ্গালুরুর টাউন হলে আয়োজিত এক সম্মেলনে তারা সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে। একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া-র সরকারের উপর ‘নরম হিন্দুত্বের রাজনীতি’ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কর্নাটকের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরা যোগ দেন। সভার মূল আলোচ্য ছিল, নির্বাচনের আগে কংগ্রেস কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং ক্ষমতায় এসে কতটা তা বাস্তবায়ন করেছে। সংগঠনগুলির তরফে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়। সেখানে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সংরক্ষণ, কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং বিজেপি আমলে চালু হওয়া কিছু আইন বাতিল না করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মুসলিম সংগঠনগুলির অভিযোগ, কংগ্রেস নির্বাচনী ইস্তাহারে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো সংগঠন ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তেমন কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণের বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনগুলির দাবি, আগের ৪ শতাংশ সংরক্ষণ পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা হয়নি। বরং তা বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও বিজেপি সরকারের সময় চালু হওয়া ধর্মান্তর বিরোধী আইন এবং গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত আইন এখনও বহাল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনগুলির বক্তব্য, এই আইনের প্রভাব পড়ছে পশুপালক, মাংস ব্যবসায়ী, চামড়া শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষ এবং পরিবহণ কর্মীদের জীবিকায়। একইসঙ্গে গোরক্ষার নামে হেনস্থা, সাম্প্রদায়িক মিছিল, অর্থনৈতিক বয়কট ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ বৃদ্ধির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়েও সরব হয়েছে সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, কর্নাটকে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ হলেও বিধানসভায় সেই অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব নেই। ২২৪ আসনের বিধানসভায় মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা খুবই কম বলে দাবি করা হয়েছে। আগামী দিনে আইন পরিষদ ও পুরভোটে আরও বেশি মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার দাবিও উঠেছে।
সম্মেলনে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়েও আলোচনা হয়। অভিযোগ, বহু ওয়াকফ জমি দখল হয়ে যাচ্ছে এবং সেগুলি রক্ষায় প্রশাসন যথেষ্ট সক্রিয় নয়। ওয়াকফ সম্পত্তির সুরক্ষা ও আইনি লড়াইয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা গড়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রিপোর্ট রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিধায়ক, মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে। কিছু বক্তা আবার সতর্ক করে বলেন, দাবিগুলি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে মুসলিম ভোট অন্য রাজনৈতিক দলের দিকেও যেতে পারে।


