প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ইউসুফ পঠানকে ঘিরে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল গুজরাত হাই কোর্ট। বডোদরা পুরসভার মালিকানাধীন একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ঘটনায় আদালত একাধিক প্রশ্ন তুলেছে।
সোমবার মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট জানতে চায়, কোনও সরকারি অনুমতি ছাড়া এবং নির্ধারিত মূল্য না মিটিয়ে কীভাবে ওই জমির ব্যবহার করা হয়েছিল। আদালতের মতে, সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনে চলা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম উপেক্ষা করে জমির দখল বা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।
মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল এবং বিচারপতি ডি.এন. রায়ের বেঞ্চ আরও জানায়, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এতদিন জমিটি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে সেই ব্যবহারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও তাঁকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানি ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বডোদরা পুরসভার অধীন প্রায় ৯৭৮ বর্গমিটার জমি। পুরসভার অভিযোগ, বহু বছর ধরে ওই জমির চারপাশে ঘের তৈরি করে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
যদিও একসময় পুরসভা ওই জমি সরাসরি বিক্রির একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট দামে জমিটি কেনার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে রাজ্য সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এরপর থেকেই জমিটির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
এই বিষয়ে প্রথম অভিযোগ ওঠে এক বিজেপি কাউন্সিলরের তরফে। তাঁর দাবি ছিল, জমিটি নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও সরব হন। গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ও এই অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে।
২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ে জয়ী হন ইউসুফ পঠান। সাংসদ হওয়ার পরও জমি বিতর্ক থামেনি। পরে বডোদরা পুরসভা তাঁকে নোটিস পাঠিয়ে জমি খালি করার নির্দেশ দেয়।
ওই নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন ইউসুফ। তবে তাঁর আবেদন আগেই খারিজ করে দিয়েছিল গুজরাত হাই কোর্ট। এবার নতুন শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ এই মামলাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। আগামী শুনানির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।


