প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা কোটি কোটি পরিবারের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা এতদিন বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার পেতেন। তবে এবার সেই সংখ্যায় বড়সড় কাটছাঁট করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা বছরে মাত্র চারটি ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সিলিন্ডার পাবেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে এই প্রকল্পে ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা কমানো হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার সময় সুবিধাভোগীরা বছরে ১২টি সিলিন্ডারে আর্থিক সহায়তা পেতেন। পরে সেই সংখ্যা কমে ৯-এ দাঁড়ায়। এবার তা আরও কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে আনা হল।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রকল্পভুক্ত গ্রাহকদের গড় ব্যবহারের হিসাবের ভিত্তিতে। সরকারের দাবি, অধিকাংশ পরিবার বছরে যতগুলি সিলিন্ডার ব্যবহার করে, সেই তথ্য বিবেচনা করেই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার এখনও প্রতিটি সিলিন্ডারে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে চলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন রান্নার গ্যাসের দামও সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিতীয়বার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর কলকাতায় একটি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম পৌঁছেছে ৯৬৮ টাকায়। ফলে সাধারণ পরিবারের মাসিক খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ভারতে এখনও গ্যাসের দাম তুলনামূলকভাবে কম। সরকার জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলির পাশাপাশি অনেক উন্নত দেশেও রান্নার গ্যাসের মূল্য ভারতের চেয়ে বেশি। সেই কারণে ভর্তুকি চালু রেখেই গ্রাহকদের সহায়তা করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উজ্জ্বলা প্রকল্পের একজন উপভোক্তা বর্তমানে ভর্তুকির সুবিধা নিয়ে ১৪.২ কেজির একটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার অনেক কম খরচে পেয়ে থাকেন। তবে বার্ষিক ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে গরিব ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।


