কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিশ্বখ্যাত সংস্থা ইউনেস্কোর নাম বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যবহার করে কোটি টাকার বেআইনি ব্যবসার অভিযোগ উঠল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে বাণিজ্যিক ফায়দা তোলার অভিযোগে সস্ত্রীক এই তৃণমূল নেতাসহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ, রাজ্যের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং বৌবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূল জমানায় সংস্কৃতি ও উৎসবের নামে কীভাবে আর্থিক প্রতারণার জাল বোনা হচ্ছে, এই ঘটনা তারই আরও এক জ্বলন্ত প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই হাই-ভোল্টেজ জালিয়াতির মামলায় যাদের নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে, তারা হলেন:
- ইন্দ্রনীল সেন (প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী)
- মধুছন্দা সেন (ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী)
- ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ
- সায়ন্তন মৈত্র
- রাজন চট্টোপাধ্যায়
মেঘদূত ফাউন্ডেশনের কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং সগুনা মুখোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই অভিযোগে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো এবং প্রিভিলেজড পুজো এন্ট্রির নামে মোটা টাকার টিকিট বিক্রির এক বিশাল বাণিজ্যিক ফাঁদ পাতা হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করাতে প্রচার করা হয় যে, এর সঙ্গে সরাসরি ইউনেস্কোর অনুমোদন ও অংশীদারি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইউনেস্কো এমন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি বা টিকিট বিক্রির অনুমতি দেয়নি, যার অকাট্য প্রমাণ ও ইমেলও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কলকাতার দুর্গাপূজার আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের এই প্রভাবশালী নেতারা যেভাবে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে পকেট ভরানোর চেষ্টা করেছেন, তা বাংলার সংস্কৃতির পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই নোংরা আর্থিক কেলেঙ্কারির পেছনে আর কার কার হাত রয়েছে, তা নিয়ে পুলিশি তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে, যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল মহলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সদুত্তর মেলেনি।


