ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের আবহেই ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা বহন করতে পারে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন এই বাহিনী ‘ইউনাইটেড স্টেটস ইন্ডো-প্যাসিফিক কমান্ড’ নামে পরিচিত ছিল। তবে এখন সেই নাম থেকে ‘ইন্ডো’ শব্দটি সরিয়ে আবার পুরনো নাম ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড’ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে।শুধু নাম পরিবর্তনই নয়, এই কমান্ডের আওতাভুক্ত এলাকার যে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই মানচিত্রে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে।কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা অনেকটাই বেড়েছিল। বিশেষ করে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘ইন্ডো-প্যাসিফিক’ শব্দটির ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হত। কারণ এই ধারণার মাধ্যমে ভারতের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই সামরিক কমান্ডের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৭ সালে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যানের উদ্যোগে এটি গঠিত হয়। আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে পুরনো এবং বৃহৎ সমন্বিত কমান্ডগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।কোরিয়া যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অভিযানে এই কমান্ড অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মানবিক সংকটের সময়ও বিভিন্ন দেশে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মিত্র দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার কাজ করে আসছে।তবে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনের ফলে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও দুই দেশের সরকার এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি, তবুও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অবস্থানের দিকে নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Popular Categories


