মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের বাড়তে শুরু করেছে। এবার ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ইরান। তেহরানের দাবি, লেবাননকে ঘিরে যে সমঝোতা স্মারক বা মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হয়েছিল, তার পর থেকে অন্তত ৮৪ বার সেই চুক্তি ভেঙেছে ইজরায়েল। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।ইরানের এই কড়া বার্তার পিছনে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা। স্থানীয় সূত্রের খবর, ইজরায়েলি বাহিনীর অভিযানে সেখানে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান অভিযোগ করেছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বারবার চ্যালেঞ্জ করছে ইজরায়েল।এদিকে এই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উদ্দেশে বলেন, লেবানন প্রসঙ্গে তাঁকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আমেরিকা।অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, ইরানের তেল বহনকারী আরও একটি জাহাজ ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি সীমা অতিক্রম করেছে। এটি এমন তৃতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার, যা সম্প্রতি ওই এলাকা পেরিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনও সমঝোতা হলে তাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অবশ্যই থাকতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের আটকে থাকা বিদেশি সম্পদ মুক্ত করতে হবে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং লেবানন থেকে ইজরায়েলি বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে।বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে ইরান-ইজরায়েল দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে আমেরিকার ভূমিকা—সব মিলিয়ে অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
Popular Categories


