পশ্চিম তীর ও গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ফের প্রাণহানির ঘটনা সামনে এসেছে। ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অভিযোগ, রামাল্লার পশ্চিমে একটি সামরিক চেকপয়েন্টে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার কারণে চার মাসের এক শিশু চিকিৎসা না পেয়ে ম মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পশ্চিম তীরের অন্য একটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ১৬ বছরের এক কিশোরেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, চার মাস বয়সি আহমদ মারুফ জেইদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর পরিবার দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু রামাল্লার কাছে দেইর আম্মার সামরিক চেকপয়েন্টে তাঁদের পথ আটকে দেওয়া হয়। রামাল্লা ও এল-বিরেহর গভর্নর লাইলা ঘান্নাম জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্ব হয়। পরে আরব স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, চেকপয়েন্টের এক পাশে শিশুটির পরিবার এবং অন্য পাশে একটি অ্যাম্বুল্যান্স অপেক্ষা করছে। অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর বাধার কারণে অ্যাম্বুল্যান্সটি অসুস্থ শিশুর কাছে পৌঁছাতে পারেনি। দেইর আম্মার চেকপয়েন্টটি গত কয়েক মাস ধরে কঠোর নজরদারি ও চলাচলের বিধিনিষেধের জন্য আলোচনায় রয়েছে।লাইলা ঘান্নাম আরও অভিযোগ করেন, চেকপয়েন্ট পার হওয়ার চেষ্টা করা বাসিন্দা ও গাড়িগুলির দিকে কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বহু প্রতীক্ষার পর জন্ম নেওয়া পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিল আহমদ। তাঁর মৃত্যু মানবতার জন্য এক গভীর আঘাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অভিযোগ, সামরিক চেকপয়েন্ট ও চলাচলের নানা বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ মানুষ, রোগী এবং অ্যাম্বুল্যান্স প্রায়ই সমস্যার মুখে পড়ছে। এর ফলে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।এদিকে গাজায়ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আল-শিফা মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের বাইরে বহু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গুরুতর অসুস্থ ও আহত মানুষদের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০ হাজারেরও বেশি রোগী ও আহত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেরুজালেমের উত্তরে কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৬ বছরের ওয়ালিদ নিদাল আবু স্নেইনেহ নামে এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। একই ঘটনায় আরও দুই ১৪ বছর বয়সি কিশোর আহত হয়েছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১,০৮৭ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।এদিকে গাজা শহরের ওমর আল-মুখতার সড়কে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর একটি ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় অন্তত দু’জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে নিহত ও আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার পথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু শিশুর, গাজার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানে নিহত আরও এক কিশোর
Popular Categories


