দীর্ঘ অনশনের পর এবার অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। বর্তমানে তিনি দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল থেকেই হাতে লেখা একটি চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি পূরণ হলে তিনি তাঁর অনশন কর্মসূচি শেষ করতে প্রস্তুত।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই শর্তগুলি পূরণ হলে তবেই তিনি আন্দোলনের এই পর্ব শেষ করবেন।
চিঠিতে ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন যে বর্তমানে তাঁর স্বাধীনভাবে চলাফেরা, মত প্রকাশ এবং যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই ধরনের পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাঁর প্রথম দাবি, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক যে সমস্যাগুলি সামনে এসেছে, বিশেষ করে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেই বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত। পাশাপাশি এই ঘটনাগুলির জন্য সরকারের দায় স্বীকারেরও দাবি তুলেছেন তিনি।
দ্বিতীয় শর্তে ওয়াংচুক বলেছেন, যদি তাঁকে এবং আন্দোলনের অন্যান্য প্রতিনিধিদের সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা তাঁদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের আশ্বাস দেন, তাহলে তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তাঁর তৃতীয় শর্ত আরও স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, যদি শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে সংসদে উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে। সেই সঙ্গে আন্দোলনের দাবিগুলি নিয়ে সংসদে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতিও দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসের শেষ দিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া একটি আন্দোলনে অংশ নিয়ে ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিরুদ্ধে তিনি এই কর্মসূচি গ্রহণ করেন। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকরা জানান, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এরপর পুলিশ তাঁকে হাসপাতলে নিয়ে যায়। একই সময়ে আদালতও প্রশাসনকে তাঁর স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এখন নজর রয়েছে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ওয়াংচুকের প্রস্তাবিত শর্তগুলি নিয়ে এখনও সরকারি স্তরে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে তাঁর চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।


