দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীর অভিভাবককে রক্তাক্ত করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়লেন স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামে এক হিন্দুত্ববাদী নেতা। এক ডিজিটাল সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ্যেই দাবি করেন যে, নিট (NEET) জালিয়াতির প্রতিবাদে ধর্না দেওয়া নিশু আজাদ নামে এক ছাত্রীর বাবার মাথা তিনি ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির শরীরে ষাটটি সেলাই পড়েছে বলেও অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানান ওই ব্যক্তি।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে জোর আলোড়ন তৈরি হয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে সংঘটিত এই হিংসাত্মক আক্রমণের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন দেশের শীর্ষ বিরোধী নেতারা। প্রতিবাদী পরিবারকে সুবিচার দিতে ও দোষীকে আইনের আওতায় আনতে সিজেপি-র মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলিও আইনি পদক্ষেপের পথ ধরছে। অন্যদিকে, সরকারি প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে নাগরিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভের আগুন তীব্র হচ্ছে।
ঘটনার মর্মান্তিকতা স্বীকার করেও তাঁর সাফ দাবি, ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশি সহযোগিতার কারণে মারাত্মক অপরাধমূলক ধারায় মামলা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এক রাতের জন্যও কারাবাস করতে হয়নি। সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যবহৃত জুতো ও লাঠি দেখিয়ে ভরদ্বাজ দাবি করেন, বিজেপির প্রভাবশালী নেতা কপিল মিশ্রের একটি ফোনেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারা তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতৃতুল্য এবং তাঁদের ছত্রছায়াতেই তিনি প্রশাসনের যাবতীয় সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন।


