দিল্লিতে চলতি ককরোচ জনতা পার্টির অধিবেশনের মধ্যেই সংসদ ভবনের বাইরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সোমবার সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর একাধিক এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সকালে যন্তর মন্তর এলাকা থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, NEET-সহ বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়। এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ চলছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই ইস্যুতে অনশন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আন্দোলনের সমর্থকদের দাবি, তিনি এখনও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন এবং আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে চলেছেন। হাসপাতাল থেকে সাময়িকভাবে বাইরে আসার অনুমতি চেয়েও তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিন সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এবং সংসদ ভবনের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, কর্মসূচি শুরুর আগে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
দুপুরের দিকে মিছিল সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের প্রধান প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। তবে অনেক আন্দোলনকারী রাস্তায় বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যান এবং নিজেদের দাবি থেকে সরে আসতে অস্বীকার করেন।
ঘটনার জেরে রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কিছুটা অসুবিধা তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এদিকে শিক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বৈঠকের খবর সামনে এসেছে। বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং বিক্ষোভের আবহে এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।


