এবারের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ নয়, সামনে উঠে এল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও। একদিকে কালীঘাটের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গোষ্ঠী— দুই পক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠল শহিদ দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে।
ধর্মতলার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে ঋতব্রত শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি করছেন। তাঁর দাবি, যাঁরা আজ পরিচিতি পেয়েছেন, তাঁদের রাজনৈতিক উত্থানের পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান রয়েছে। সেই ইতিহাস ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিষেক আরও বলেন, যারা দল ছেড়ে অন্য পথে গিয়েছে, তাদের ভবিষ্যতে আর দলে ফেরানো উচিত হবে না। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, দলত্যাগীদের জন্য পুনরায় দরজা খোলা না রাখাই ভালো। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, তৃণমূল নেতৃত্ব এখন বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি কোনও নরম অবস্থান নিতে রাজি নয়।
অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে ঋতব্রত শিবিরও। তাদের সভা থেকেও একাধিক নেতা তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে তীব্র সমালোচনা করেন। প্রবীণ নেতা মদন মিত্র অভিযোগ করেন, দলের সাধারণ কর্মীদের পরিশ্রম ও অর্থের উপর ভর করেই কিছু নেতা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসে দল পরিচালনা, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অসন্তোষের কথা। তাঁরা দাবি করেন, দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ কর্মীদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
এরই মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একবার কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার চাপ বা ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান থেকে দল কোনওভাবেই পিছিয়ে যাবে না। শেষ পর্যন্ত দলের আদর্শ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই তাঁরা অনুগত থাকবেন বলেও জানান তিনি।
২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে দুই শিবিরের এই প্রকাশ্য সংঘাত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। তৃণমূলের অন্দরের এই মতপার্থক্য আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


