একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানে এ বার দেখা গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মঞ্চেই দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং এক প্রবীণ সাংসদের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ সামনে চলে আসে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
মঙ্গলবার কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন নেতা বক্তব্য রাখছিলেন। সেই সময় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা দিতে উঠে বিজেপির পাশাপাশি দলের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধেও একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক নেতা-নেত্রীর নাম। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কর্মীদের উপর হওয়া আক্রমণের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে এবং বিরোধীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তবে তাঁর বক্তব্য ক্রমশ দীর্ঘ হতে থাকায় মঞ্চে উপস্থিত নেতৃত্বের একাংশ অস্বস্তি বোধ করেন বলে জানা যায়। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিতের মাধ্যমে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই সময়েও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি সাংসদকে বক্তৃতা শেষ করার অনুরোধ জানান। এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য শেষ করে নিজের আসনে ফিরে আসেন। কিন্তু তারপরই মঞ্চে দুই নেতার মধ্যে কথার আদান-প্রদান শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বক্তব্য দীর্ঘ হওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে বক্তব্য রাখার পরামর্শ দেন। সেই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলের জন্য নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। সাংসদ আর নিজের আসনে না বসে মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁকে শান্ত করার জন্য এগিয়ে আসেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’জনেই তাঁর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে জানা যায়। ক্ষুব্ধ অবস্থাতেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশে জুলাইয়ের মতো দলের আবেগঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। প্রকাশ্য মঞ্চে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও এক সাংসদের মধ্যে এমন মতবিরোধ তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


