পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানালেন সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে দেশের তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। এমনকি ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পাকিস্তানেও বড় ধরনের গণআন্দোলন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নকভি বলেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের বিপুল ঋণের চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনও স্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব সরকারের হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি এখনও হয়নি।তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত, তা সরকার দিতে পারছে না। এর ফলে যুব সমাজের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। নকভির দাবি, তরুণরা যদি একজোট হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন, তাহলে তার প্রভাব দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের উপর বড় আকারে পড়তে পারে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামো বর্তমানে চাপে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রতি বছর বাজেট তৈরির সময় নতুন করে কত ঋণ নিতে হবে, সেই বিষয়েই বেশি আলোচনা হয়। কিন্তু কীভাবে ঋণের পরিমাণ কমানো যাবে বা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা যাবে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনও যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে দেশের আর্থিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।নিজের বক্তব্যে নকভি ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় যে আন্দোলন হয়েছিল, সেখানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশঙ্কা, সেই ধরনের সংগঠিত আন্দোলনের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যেও পড়তে পারে।উল্লেখ্য, ভারতের ওই আন্দোলন নিয়ে আগে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিছু মহল থেকে দাবি করা হয়েছিল, আন্দোলনের নেপথ্যে পাকিস্তানের সমর্থন থাকতে পারে। যদিও সেই অভিযোগের পক্ষে কোনও সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। এই পরিস্থিতিতেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলনের উদাহরণ টেনে মন্তব্য করেন মহসিন নকভি।তাঁর বক্তব্যের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলিও সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ফলে নকভির এই মন্তব্যকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলনের প্রভাবের আশঙ্কা পাকিস্তানে, অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
Popular Categories


