উত্তরপ্রদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তোলা হতে পারে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে প্রচলিত কামিল ও ফাজিল স্তরের পাঠক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়। গত বছরের ৫ নভেম্বর দেওয়া ওই রায়ে দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, উত্তরপ্রদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন থাকা প্রতিষ্ঠানগুলি উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে না, যদি না তারা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-র নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম মেনে চলে।
সুপ্রিম কোর্ট একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০০৪-এর সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে। এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই আইনকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছিল। তবে শীর্ষ আদালত সেই রায় বাতিল করে জানিয়ে দেয়, আইনটি বহাল থাকবে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত পাঠক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউজিসি-র নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি প্রদান করার ক্ষমতা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতার মধ্যে পড়ে না। তাই কামিল ও ফাজিলের মতো উচ্চস্তরের কোর্স চালাতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে ইউজিসি-র স্বীকৃতি এবং নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের ডিগ্রি দেওয়া যাবে না।
কামিল ও ফাজিল বহুদিন ধরেই মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। সাধারণভাবে কামিলকে স্নাতক স্তর এবং ফাজিলকে স্নাতকোত্তর স্তরের সমতুল্য হিসেবে ধরা হয়। ইসলামিক স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিষয়ে এই পাঠক্রমে পড়াশোনা করা হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই দুই স্তরের কোর্স আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে চালু থাকবে না।
রাজ্য সরকারের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষাব্যবস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হবে। উচ্চশিক্ষার কোর্স চালাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ইউজিসি-র সমস্ত নিয়ম মেনে আলাদা স্বীকৃতি নিতে হবে।
সরকারের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলে উত্তরপ্রদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।


