কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়িতে সিপিএমের একটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে সিপিএম। বুধবার সকালে স্থানীয় নেতারা কার্যালয়ে পৌঁছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি দেখেন। ঘটনার জন্য বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করেছে সিপিএম। তবে বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
সিপিএমের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে একদল দুষ্কৃতী কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অফিসের আসবাবপত্র, টেলিভিশন, প্রয়োজনীয় নথি-সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি কার্যালয়ের উপরের ছাউনিও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবনটির বড় অংশ এখন খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
খবর পেয়ে বুধবার সকালে সিপিএমের জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখেন এবং দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানান। দলের পক্ষ থেকে প্রথমে পুলিশকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়। পরে দিনহাটা থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য জানায়নি।
সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়ের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বার ওই কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটল। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার আরও কয়েকটি বিরোধী দলের কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এসইউসিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের কার্যালয়ের ঘটনাও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জেলায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির উপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের জেলা সহ-সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, বিজেপি উন্নয়নের কাজ নিয়েই ব্যস্ত এবং অন্য দলের কার্যালয়ে হামলা চালানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না।


