নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মসূচিকে ঘিরে এবার নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদ মিছিলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলে আয়োজকদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, শিশুদের রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী গুরুতর বিষয়।
জানা গিয়েছে, অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভ দাসদের বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়েরের অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন রিঙ্কি। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সময় ১২ বছর বয়সি কয়েকজন কিশোরীকে ঘটনাস্থলে দেখা গিয়েছিল। পুলিশি ব্যবস্থার অভিযোগ তুলে সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করা হলেও, সেই বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ওই আইনজীবী।
রিঙ্কির বক্তব্য, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অভিভাবক ও সমাজের দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে আসা হলে তার দায় আয়োজকদেরও নিতে হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনের আওতায় এই বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানিয়ে সিজেপি-র নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর করার আবেদন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শিশুদের ব্যবহার করে আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে সিজেপি-র সংসদ অভিযান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। মহিলা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে। কয়েকজন আইনজীবী দাবি করেন, পুলিশের আচরণ নিয়ে একাধিক ভিডিও প্রমাণ হিসেবে রয়েছে এবং সেই ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন জমা পড়েছে। সেখানে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও প্রশাসনের রয়েছে।
এখন সিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের হবে কি না, তা নির্ভর করছে পুলিশের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর। একইসঙ্গে আন্দোলনে শিশুদের উপস্থিতি এবং পুলিশি পদক্ষেপ—দুই বিষয় নিয়েই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।


