পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় বাসস্ট্যান্ডে বাসপিছু টাকা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে বাসস্ট্যান্ডে আসা প্রতিটি বাসের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পর বাসকর্মীদের হাতে একটি কুপন দেওয়া হচ্ছে। সেই কুপনে কোনও সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নাম না থাকলেও রয়েছে গেরুয়া পতাকার ছবি।
স্থানীয় বাসকর্মীদের একাংশের দাবি, চলতি মাসের শুরু থেকেই এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে গুসকরা পুরসভার নির্ধারিত প্রবেশমূল্য আলাদা রয়েছে। বাসকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরসভার পক্ষ থেকে প্রতিটি বাসের কাছ থেকে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ টাকা নেওয়া হয় এবং তার জন্য সরকারি কুপনও দেওয়া হয়। নতুন করে যে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার জন্যই দেওয়া হচ্ছে গেরুয়া পতাকার ছবি থাকা কুপন।
এই ঘটনা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশ হওয়া মাত্রই, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কয়েক মাস আগেও গুসকরা বাসস্ট্যান্ডের পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন। সেখানে তাদের কার্যালয়ও ছিল। বাসের বিভিন্ন রুটের কাজকর্ম ওই অফিস থেকেই পরিচালিত হত। বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। এখন সেই কার্যালয়ের রং বদলে গেরুয়া করা হয়েছে। সেখানে বিজেপির পাশাপাশি ভারতীয় মজদুর সংঘের পতাকাও দেখা যাচ্ছে।
টাকা সংগ্রহের বিষয়টি অবশ্য গোপন রাখেনি ভারতীয় মজদুর সংঘ। সংগঠনের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি মাধব দাস জানিয়েছেন, ওই কুপন তাঁদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য, জেলা বা কেন্দ্রীয় স্তরে বিএমএস সরাসরি এই অর্থ নিচ্ছে না। গুসকরার বাস শ্রমিক সংগঠন অনুমতি নিয়ে অনুদান সংগ্রহ করছে। বাসস্ট্যান্ডে কাজ করা কর্মীদের প্রয়োজনীয় খরচ চালানোর জন্যই এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
তবে কার অনুমতিতে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বাসমালিকদের একাংশও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে রাজনৈতিক স্বার্থে টাকা তোলার অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি বাসমালিক ও কর্মীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে।


