নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের সরব হলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তে বিজেপির সুবিধা হচ্ছে। একই সঙ্গে কুমারকে প্রকাশ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
বিভিন্ন নির্বাচন ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করছে বিরোধী দলগুলি। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা SIR নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের কাজের ধরন নিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানান দীপকে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় দীপকে দাবি করেন, কমিশনের সিদ্ধান্তে যদি কোনও দলের প্রতীক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় এবং প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা হলে নির্বাচন পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের বিজেপির সদর দফতরে বসে কাজ করাই যেন বেশি স্বচ্ছ হবে। তাঁর বক্তব্য, কমিশন যদি সত্যিই একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করে থাকে, তা হলে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকার প্রয়োজন নেই।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন দীপকে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের পিছনে কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। সেই সূত্রেই তিনি কুমারকে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে এগুলি দীপকের রাজনৈতিক অভিযোগ ও মন্তব্য; নির্বাচন কমিশন বা জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের সমর্থনে কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দীপকে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্র রাজনীতিতে অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব বাড়ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব নিয়েও তিনি আপত্তি জানান। একই সঙ্গে ছাত্রদের আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপকে। বর্তমানে শিক্ষা, ছাত্র আন্দোলন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত বক্তব্য রাখছেন।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমালোচনার মধ্যেই দীপকের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত ও তার নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা চলছে, তাঁর বক্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও সামনে নিয়ে এল বলে জানা গিয়েছে।


