নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হলফনামায় হাসিরানি রথ তাঁর বয়স ৬০ বছরের বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। সেই তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৬৫ বা ১৯৬৬ সালের কাছাকাছি হওয়ার কথা। কিন্তু একই নথিতে তাঁর মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সাল হিসেবে ১৯৬৫ সালের উল্লেখ রয়েছে। ফলে বয়সের তথ্যের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যের মধ্যে একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যদি হলফনামায় উল্লেখ করা জন্মসাল সঠিক হয়, তাহলে ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করার তথ্যটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়ে। কারণ ওই হিসাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সময় তাঁর বয়স খুবই কম, এমনকি জন্মসালের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সময়কালও মেলে না।
শুধু বয়স ও পরীক্ষায় পাশ করার সাল নয়, যে স্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক পাশ করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। হলফনামায় স্কুল হিসেবে চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠের নাম রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই স্কুলটি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দশম শ্রেণির পাঠদানের জন্য অনুমোদন পায় ১৯৭৩ সালে। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭৪ সাল থেকে ওই স্তরের পড়ুয়ারা মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এই তথ্যের সঙ্গে হাসিরানি রথের হলফনামায় দেওয়া ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশের তথ্যের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হলফনামায় দেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্কুল সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে। নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীর হলফনামায় বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নন্দীগ্রামের এই ঘটনা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের দিকে।


