ভারতীয় শেয়ার বাজার নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এশিয়ার বাজারগুলির মধ্যে এখন ভারতকেই সবচেয়ে কম পছন্দের বাজার হিসেবে দেখছেন অনেক ফান্ড ম্যানেজার। ইন্দোনেশিয়াকে পিছনে ফেলে এই তালিকায় সবার নীচে উঠে এসেছে ভারত। ব্যাঙ্ক অব আমেরিকার একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
সমীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মোট ৯৮ জন ফান্ড ম্যানেজার। তাঁদের হাতে থাকা সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ২৭২ বিলিয়ন ডলার। ৭ থেকে ১৩ অগস্টের মধ্যে তাঁদের মতামত নেওয়া হয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৩২ শতাংশ ফান্ড ম্যানেজার ভারতীয় বাজারে ‘আন্ডারওয়েট’ অবস্থান নিয়েছেন। অর্থাৎ তাঁদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় শেয়ারবাজার নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক ব্যবসায় ভারতীয় সংস্থাগুলির স্পষ্ট উপস্থিতির অভাব। এর পরেই রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশঙ্কা। এছাড়াও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাব এবং শেয়ারদরের তুলনামূলক বেশি মূল্যায়ন বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন গত দু’সপ্তাহে ভারতীয় শেয়ারবাজারে কিছুটা পতন দেখা গিয়েছে। যদিও বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক ফলাফল আগের তুলনায় ভালো হয়েছে, তবু বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা কাটেনি।
তবে ছবির অন্য দিকও রয়েছে। চলতি ত্রৈমাসিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখনও পর্যন্ত ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভারতীয় শেয়ার কিনেছেন। এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলির মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ। বছরের প্রথম ছয় মাসে বড় অঙ্কের অর্থ ভারতীয় বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এই প্রবাহ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
এদিকে, নিফটি ৫০ সূচকের আওতাভুক্ত সংস্থাগুলির মুনাফা সাম্প্রতিক তিন মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমানের ১০ শতাংশের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
এর আগে মে মাসেও ভারত ব্যাঙ্ক অব আমেরিকার সমীক্ষায় সবচেয়ে কম পছন্দের বাজার হয়েছিল। সেই সময় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এখন আবার তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের চিন্তা আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। জুনের নিম্নস্তর থেকে দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক ২০ শতাংশের বেশি উঠেছে। ফলে ভারতীয় বাজারের তুলনায় ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাই আগামী দিনে ভারতীয় শেয়ারবাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


