জার্মানির রাজধানী বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল বামপন্থী দল ডাই লিঙ্কে। ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে দলটি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। দলের প্রধান প্রার্থী এলিফ এরাল্প এখন বার্লিনের পরবর্তী গভর্নিং মেয়র হওয়ার জন্য জোট গঠনের পথে এগোচ্ছেন। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ডি লিঙ্কের ভোট ২৫ শতাংশের সামান্য বেশি।
৪৫ বছরের এরাল্প পেশায় আইনজীবী। তাঁর পরিবার তুরস্ক থেকে জার্মানিতে এসেছিল। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে নিজের পরিচয়কে তিনি নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করেছেন। পাশাপাশি বার্লিনের বাড়িভাড়া ও আবাসন সমস্যা ছিল তাঁর প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়।
বার্লিনে দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িভাড়া বেড়ে চলা নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে বড় কর্পোরেট সংস্থার হাতে থাকা কিছু আবাসনকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন এরাল্প। তাঁর দলের পরিকল্পনায় প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার বাড়ি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মতবিরোধ রয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন ও খরচ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনে ডি লিঙ্কের পরেই ছিল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন বা CDU। দলটির ভোট ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। এর ফলে বার্লিনে এতদিনের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেই সরাসরি মেয়র হওয়া যায় না। সরকার চালাতে ডি লিঙ্কেকে অন্য দলের সঙ্গে জোট করতে হবে। সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা SPD এবং গ্রিনসের নাম সামনে আসছে। কিন্তু জোটের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নীতিগত প্রশ্নে মতবিরোধ রয়েছে।
বিশেষ করে আবাসন সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে SPD-র শীর্ষ প্রার্থী স্টেফেন ক্রাখ আপত্তি জানিয়েছেন। নিরাপত্তা এবং বিদেশনীতি নিয়েও ডি লিঙ্কের সঙ্গে মূলধারার দলগুলির মতপার্থক্য রয়েছে। ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য এবং ন্যাটো নিয়ে দলটির অবস্থানও জোট আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইজরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নেও ডি লিঙ্কে বিতর্কের মুখে পড়েছে। দলের কয়েকটি স্থানীয় শাখার কিছু বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বার্লিনের ন্যুকোলন এলাকায় দলের একটি অনুষ্ঠানে এক শিল্পীর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা হয়। এরাল্প সেই ঘটনার থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন এবং বার্লিনে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক জীবনকে সমর্থনের কথা বলেছেন।
এরাল্পের রাজনৈতিক জীবনও দীর্ঘ। ১৯৮০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাঁর বাবা-মা তুরস্ক ছেড়ে জার্মানিতে চলে আসেন। মিউনিখে জন্মের পর তিনি হামবুর্গে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন। ২০১০ সালে ডি লিঙ্কের সঙ্গে যুক্ত হন।
এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হল জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠন করা। বার্লিনের নির্বাচনী ফল তাই শুধু একটি দলের জয় নয়, রাজধানীর আগামী রাজনৈতিক দিক নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু করেছে।


