এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের ঋণ সংক্রান্ত মামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিল ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT)। মঙ্গলবার পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ আগের বেঞ্চের দেওয়া অনুমোদনে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সুভাষ চন্দ্র তাঁর কোনও সম্পত্তি সরাসরি বা ঘুরপথে অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি মূলত সুভাষ চন্দ্রের জামিনদার হিসেবে থাকা বিপুল ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ঋণের পরিমাণ ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে ঋণদাতাদের জন্য মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব সামনে এসেছিল। পাশাপাশি আইনি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত খরচ হিসেবে আরও ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এই প্রস্তাব নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক।
নতুন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে রয়েছেন NCLT-র প্রেসিডেন্ট বিচারপতি অনুপিন্দর সিংয়ের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় সদস্য বাচু ভেঙ্কট বালারা দাস ও মহেন্দ্র খান্ডেলওয়াল এবং টেকনিক্যাল সদস্য অতুল চতুর্বেদী ও রবীন্দ্র চতুর্বেদী। ঋণদাতাদের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার আবেদনের ভিত্তিতেই সম্পত্তি হস্তান্তরের উপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এই মামলায় আগের বেঞ্চের সদস্যদের মধ্যে মতের মিল হয়নি। দুই সদস্যের বেঞ্চে বিচার বিভাগীয় সদস্য অশোক কুমার ভরদ্বাজ প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন। তাঁর মতে, ঋণদাতারা যে প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন, তার পরিধি সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়া পক্ষগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্যদিকে টেকনিক্যাল সদস্য রীনা সিনহা পুরি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
এরপর বিষয়টি তৃতীয় সদস্য নীলেশ শর্মার কাছে যায়। গত ২৫ আগস্ট তিনি প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঋণদাতা যখন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তখন শুধু কয়েকজন ঋণদাতার আপত্তির কারণে সেটিকে বাতিল করা যায় না।
কিন্তু পরে মামলাটি ফের মূল বেঞ্চে ফিরে এলে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। দুই সদস্যের মধ্যে মতবিরোধ মেটেনি। ফলে কোম্পানিজ অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী মামলাটি পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ঋণদাতাদের পাওনা প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার বিপরীতে মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ টাকা ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যদিও ৮০.৮১৪ শতাংশ ভোটিং ক্ষমতা থাকা ঋণদাতারা সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নতুন বেঞ্চ সেই অনুমোদন আপাতত স্থগিত করল। ফলে সুভাষ চন্দ্রের ঋণ নিষ্পত্তির বিষয়টি ফের আইনি জটিলতায় পড়ল।


