ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের পাইলটকে চাকরি থেকে সরিয়ে দিল সংস্থা। গত ৪ অগস্ট ওড়িশার আকাশে বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। সেই সময় বিমানে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী ও কর্মী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই বিমানের নিরাপত্তা এবং পাইলটদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। তদন্তের প্রথম রিপোর্টে জানানো হয়েছে, উড়ানের সময় বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা একই সময়ে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিমান নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়। ওই সময় বিমানের দায়িত্বে থাকা পাইলটের শারীরিক অবস্থাও তদন্তকারীদের নজরে আসে।এএআইবির রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমান চালানোর আগে ওই পাইলট গাঁজা এবং ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন বলে পরীক্ষায় তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনার পরে বিমানের দুই পাইলটের মাদকজাত বা মনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন পদার্থের পরীক্ষা করা হয়েছিল। পাইলটের পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ধরনের উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তাঁর দু’বার পরীক্ষা হলেও ফল স্বাভাবিক ছিল না।এএআইবি এই বিষয়ে অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। রিপোর্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৩৪ বছর বয়সি ওই পাইলটকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনেই পাইলটের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বিমানে মোট ১৪৫ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩৭ জন যাত্রী, যার মধ্যে তিনটি শিশু ছিল। এছাড়া আটজন বিমানকর্মী ছিলেন। হঠাৎ বিমান নীচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী ও চারজন কর্মী গুরুতর আহত হন।
Popular Categories


