Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি অনুদান পেয়েছিল। এই অঙ্ক বিজেপি বাদে দেশের অন্য সব জাতীয় দলের পাওয়া মোট অনুদানের তুলনায়ও বেশি। বিবিসি হিন্দির এক রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ছয়টি দল হল—সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, আম জনমত পার্টি, গরিব কল্যাণ পার্টি, স্বতন্ত্র অভিব্যক্তি পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল এবং নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি। ছয়টি দলেরই সদর দপ্তরই গুজরাটে। এর মধ্যে পাঁচটির ঠিকানা আহমেদাবাদে, অন্যটির সদর দপ্তর আনন্দ শহরে।

শুভাঙ্গী মিশ্রের করা বিবিসির রিপোর্তে দাবি করা হয়েছে, ২০২২-২৩ সালে এই দলগুলির প্রত্যেকটি ১৩৮ কোটি থেকে ৬২০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান পেয়েছিল। অথচ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ছয়টি দল মিলিয়ে মাত্র ১৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল।

অনুদানের অঙ্কে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল আম জনমত পার্টি। তারা পেয়েছিল প্রায় ৬২০ কোটি টাকা। সত্যবাদী রক্ষক পার্টি পেয়েছিল ৩৩০ কোটি টাকা এবং নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি পেয়েছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম, প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল গরিব কল্যাণ পার্টি।

আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অনুদান গ্রহণ করতে পারে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে রাজনৈতিক দল এবং অনুদানদাতা—দুই পক্ষই আয়কর সংক্রান্ত সুবিধা পেতে পারে। তবে বিবিসির অনুসন্ধানে এই দলগুলির অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও বেআইনি কাজের অভিযোগ করা হয়নি।

তবে প্রতিবেদনে আয়কর দফতরের কিছু তদন্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকজন অনুদানদাতার কাছ থেকে কর বাবদ অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মতে, এ ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি হতে পারে—দাতারা রাজনৈতিক অনুদানের শংসাপত্র সংগ্রহ করে আয়কর ছাড়ের সুবিধা নেন। এরপর কোনও ‘সার্ভিস চার্জ’ বা সেবামূল্য কেটে নেওয়ার পর অনুদানের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হতে পারে। তবে এটি একটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; ওই ছয়টি দলের ক্ষেত্রে এমন কোনও নির্দিষ্ট বেআইনি লেনদেন প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়নি।

আরও একটি বিষয় নজরে এসেছে দলের দফতর নিয়ে। বিবিসির অনুসন্ধানী দল নিবন্ধিত ঠিকানাগুলিতে গিয়ে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ খুব বেশি পায়নি বলে জানিয়েছে। কোথাও আবাসিক ফ্ল্যাট, কোথাও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের দোকানঘর—এমন ঠিকানাতেই দলের কার্যালয় দেখানো হয়েছে। বেশ কিছু জায়গা আবার বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

সত্যবাদী রক্ষক পার্টির সভানেত্রী স্বাতী বেন আনন্দ শহরের যে আবাসিক কমপ্লেক্সে দলের নিবন্ধিত কার্যালয় রয়েছে, সেখানেই অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, দলের পাওয়া অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করা হয়েছে। তবে সেই খরচের কোনও হিসাব বা নথিপত্র দল সংরক্ষণ করেনি বলেও তিনি জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সত্যবাদী রক্ষক পার্টি মাত্র একজন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটি নির্বাচনী প্রচারে প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করার দাবি করেছিল। এর আগের অর্থবর্ষে দলটি ৩৩০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ৩১৬ কোটি টাকা ব্যয় করার দাবি করেছিল।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রায় ২,৮০০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত থাকলেও স্বীকৃত দলের সংখ্যা অনেক কম। কমিশনের স্বীকৃতির তালিকায় জাতীয় ও রাজ্য—দুই ধরনের দল রয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, বিএসপি, সিপিএম এবং এনপিপি জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলির জন্য হিসাব নিরীক্ষা করানো এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্ষিক রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ২০ হাজার টাকার বেশি অনুদান দেওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে উল্লেখ করতে হয়।

এদিকে, নির্বাচনে অংশ না নেওয়া বা প্রার্থী না দেওয়ার মতো কারণে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ৮০০-র বেশি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করেছে। তবে গুজরাটের ওই ছয়টি দল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে ১৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিপুল অঙ্কের অনুদান পাওয়া এই দলগুলির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা সক্রিয় ছিল এবং এত বড় তহবিল কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে, কোনও দল নির্বাচনী রাজনীতিতে সীমিত উপস্থিতি বজায় রেখেও বিপুল অনুদান পেলে সেই অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে নজরদারি কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

Hot this week

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

Related Articles

Popular Categories