দেশের সাধারণ মানুষকে ব্যাংকিং পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা শুরু করেছিল। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ তৈরি করাই ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি সরকারি আর্থিক সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল।
তবে প্রকল্প শুরুর প্রায় ১২ বছর পর এর বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তথ্যের অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য থেকেই বিষয়টি সামনে এসেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে জনধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ৫৯ কোটি। এর মধ্যে ১৫ কোটির বেশি অ্যাকাউন্ট বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন কোনও লেনদেন না হওয়া-সহ বিভিন্ন কারণে এসব অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রায় ৫ কোটি ৭২ লক্ষ জনধন অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট থাকলেও সেগুলিতে সঞ্চয়ের পরিমাণ শূন্য। এই পরিস্থিতি প্রকল্পটির সাফল্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রাজ্যগুলির মধ্যে উত্তরপ্রদেশে নিষ্ক্রিয় জনধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গিয়েছে। ফলে শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিলেই যে মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয় না, এই তথ্য যেন সেই প্রশ্নই সামনে আনছে।
সম্প্রতি দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হয়েছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। যদিও এই পরিসংখ্যানের বাস্তবতা নিয়ে বিরোধী দল এবং অর্থনীতিবিদদের একাংশ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন। এর মধ্যেই জনধন অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নিষ্ক্রিয়তা ও শূন্য ব্যালান্সের তথ্য সামনে আসায় সাধারণ মানুষের আয় ও সঞ্চয়ের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

