সপ্তাহে পাঁচদিনের কর্মদিবস চালুর দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের জেরে শুক্রবার সকাল থেকেই সমস্যায় পড়লেন সাধারণ গ্রাহকরা। তার উপর শনিবার দ্বিতীয় শনিবার এবং পরের দিন রবিবার হওয়ায় টানা তিন দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হতে চলেছে। অনেক জায়গায় এটিএমও কাজ করছে না। যে কয়েকটি এটিএম চালু রয়েছে, সেখানেও টাকা তোলার জন্য দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। দুর্গাপুজোর আগে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।
শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মঘটের প্রভাব দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলাতেও ব্যাঙ্কের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন কর্মীরা। আসানসোলে পাঁচদিনের কর্মদিবসের দাবিতে প্রতিবাদে অংশ নেন স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত বিষয়টির কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশন (AIBOC)-এর দাবি, পাঁচদিন কাজের ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আগে থেকেই সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ২০২৪ সালে বেতন সংশোধনের সময় এই বিষয়ে লিখিত চুক্তিও হয়েছিল। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর কেটে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।
সংগঠনের অভিযোগ, বারবার আইনি জটিলতার কথা বলে বিষয়টি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন ব্যাঙ্ক অফিসাররা। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত দাবি মেনে না নেওয়া হলে আগামী দিনে ধর্মঘটের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
AIBOC জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে। এরপরও যদি সরকারের তরফে কোনও সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
এই আন্দোলনের প্রভাব শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কেই সীমাবদ্ধ নয়। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্কের অফিসাররাও রয়েছেন। ফলে বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাঙ্কের পরিষেবাতেও ব্যাঘাত ঘটেছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পুজোর আগে টাকা তোলা, জমা দেওয়া, চেক সংক্রান্ত কাজ কিংবা অন্যান্য ব্যাঙ্কিং পরিষেবার জন্য যাঁরা ব্যাঙ্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের অনেককেই ফিরে যেতে হয়েছে। টানা তিন দিন পরিষেবা বন্ধ থাকায় আগামী সপ্তাহের শুরুতে ব্যাঙ্ক খুললে ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


