দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সনাতন ধর্ম এবং গেরুয়া নিয়ে বিরোধিতার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামেদের নিশানা করার পর এ বার একই সুরে হুঁশিয়ারি দিলেন করনদিঘির বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, দুর্গাপুজোর সময় কমিউনিস্টদের কোনও বুকস্টলে ‘দুর্গাপুজো’ লেখা না থাকলে তিনি নিজেই সেই স্টল ভেঙে দেবেন।
বিরাজের বক্তব্য, যাঁরা ধর্মকে গুরুত্ব দেন না, তাঁদের দুর্গাপুজোর সময় স্টল করার প্রয়োজন নেই। কমিউনিস্টদের নিশানা করে তিনি বলেন, “ওরা তো ধর্মকে আফিম মনে করে, তাদের জন্য তো পুজো নয়। স্টল দেওয়ার দরকার নেই। আর স্টলে যদি দুর্গাপুজো লেখা না থাকে, সেখানে গিয়ে আমি স্টল ভাঙব।”
এর আগে মুখ্যমন্ত্রীও দুর্গাপুজোর বুকস্টল নিয়ে বামেদের নিশানা করেছিলেন। বিভিন্ন পুজো কমিটির কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, কমিউনিস্টদের বুকস্টলে ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে সেই স্টল করতে দেওয়া উচিত নয়। পুজোর নাম ব্যবহার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পরই বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
শনিবার গণেশপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেও বামেদের তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ বাম শাসনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও হিন্দু সংস্কৃতিকে আড়ালে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “৩৪ বছর ধরে যারা পুজো লিখতে দেবে না… তারা দুর্গাপুজো লিখবে না। মহালয়া শুনবে না। তারা মণ্ডপে প্রবেশ করে মাকে আরতি করবে না।”
বামেদের বুকস্টল নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই স্টলগুলিতে স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দ বা ভারত সেবাশ্রমের লেখা বই পাওয়া যাবে না, বরং কার্ল মার্কস ও লেনিনের বই পাওয়া যাবে। হনুমান চালিশা পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “জরুরি অবস্থার সময় কংগ্রেসও এমন কথা বলেছিল। কিশোর কুমারের গান চলবে কি না সেটা সঞ্জয় গান্ধী ঠিক করে দেবেন। আমরা রুখে দাঁড়াব। এরপর যদি আইনের শাসন রাজ্যে না থাকে, তার দায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিতে হবে।”
বিজেপি ও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের ভাই এবং বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে বাঙালিকে প্রথম মার্ক্স, লেনিনের বই পড়তে শিখিয়েছিলেন যিনি, তিনি হলেন স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।”
দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হচ্ছে। পুজোর বুকস্টল, ধর্মীয় পরিচয় এবং বামেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ—এই তিনকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের পরস্পরকে আক্রমণ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।

