পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ব্লকের একটি স্কুলে বিজেপি নেতার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগ, স্কুলে পঠনপাঠন চলাকালীন একটি ক্লাসরুমে গিয়ে শিক্ষকের চেয়ারে বসেই পড়ুয়াদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেন বিজেপি নেতা সুব্রত গোস্বামী। সেই সময় এক শিক্ষককে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর বিজেপির নেতা মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে বলতে শোনা গেছিল ‘বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা পড়াশোনা করবে, এটা রাজনীতির জায়গা নয়’! রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতা মন্ত্রীদের এই নৈতিকতাকে উপেক্ষা করে বিজেপি নেতা সুব্রত গোস্বামীর এমন কর্মকাণ্ডের কারণ কি? এ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
ঘটনাটি ভাতার ব্লকের বলগোনা বাজার এলাকার শুশুনদিঘি এইচপি হাইস্কুলের। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে ‘বিকশিত ভারত ভিশন ২০৪৭’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই স্কুলে যান বিজেপির ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের কনভেনর সুব্রত গোস্বামী। তিনি পেশায় প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং কার্গিল যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
স্কুলে গিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়াদের সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে কথা বলেন সুব্রত। ভিডিয়োয় তাঁকে শিক্ষকের চেয়ারে বসে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন পার্শ্বশিক্ষক নিমাইচন্দ্র মল্লিক। দরজার কাছে আরও কয়েকজন শিক্ষককেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন ওঠে, স্কুলের ভিতরে একজন রাজনৈতিক দলের নেতা কীভাবে ক্লাসরুমে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলেন এবং কেন শিক্ষককে দাঁড়িয়ে থাকতে হল।
বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন সিপিএম নেতা দীপঙ্কর দে। তার বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি, একজন নেতার এভাবে শিক্ষকের আসনে বসায় ছাত্র-ছাত্রীদের মনে খারাপ প্রভাব পড়বে।
যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুব্রত গোস্বামী। তাঁর দাবি, নিজের ইচ্ছায় তিনি ওই চেয়ারে বসেননি। স্কুলের শিক্ষকরা তাঁকে সম্মান জানাতেই সেখানে বসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। প্রাক্তন সেনাকর্মী হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং কার্গিল যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা মাথায় রেখেই তাঁকে চেয়ারে বসতে বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, ঘটনাটিকে অন্যভাবে তুলে ধরে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিম্মত আলিও একই কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ওই দিন স্কুলে ‘বিকশিত ভারত’ কর্মসূচি চলছিল। সুব্রত গোস্বামী ক্লাসরুমে গেলে তাঁকে প্রাক্তন সেনাকর্মী হিসেবে সম্মান জানিয়ে চেয়ারে বসতে বলা হয়। পার্শ্বশিক্ষক নিমাই মল্লিকও জানিয়েছেন, প্রথমে সুব্রত বসতে রাজি হননি। পরে শিক্ষকদের অনুরোধেই তিনি চেয়ারে বসে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন।


