উত্তরপ্রদেশের মীরাট ও বারাণসীতে যুব ভোটারদের সচেতন করার জন্য আয়োজিত দুটি অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। এই দুই অনুষ্ঠানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য রাখার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণে অনুষ্ঠানের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, আপাতত অনুষ্ঠান দুটির নতুন তারিখ ঠিক হয়নি।মীরাটে বৃহস্পতিবার ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাব বা ভোটার সচেতনতা ক্লাব নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে ভোট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই ক্লাবগুলি কাজ করে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা সংক্রান্ত পোর্টাল ও অ্যাপ ECINET নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।অন্যদিকে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বারাণসীতে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল সিইসির। দুটি অনুষ্ঠানেই পড়ুয়া, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে বড় জমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দুই শহর মিলিয়ে প্রায় ১,৫০০ জনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এছাড়াও বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৫০০ জন বুথ লেভেল অফিসারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার পরিকল্পনা ছিল।নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ২১ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, জায়গা পাওয়া, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সময়সূচি এবং প্রাকৃতিক পরিস্থিতির মতো নানা কারণে এ ধরনের অনুষ্ঠানের তারিখ বদল হতে পারে। এর আগেও হিমাচল প্রদেশ, লাদাখ এবং উত্তরাখণ্ডে ভোটার সচেতনতা সংক্রান্ত অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভিতরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসে। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি ক্যাবিনেট সচিবকে একটি চিঠি লিখেছিলেন বলেও জানা যায়।এরপর বৃহস্পতিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টিও একই দাবি জানিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না হলে প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।নির্বাচন কমিশনের ELC 2.0 এবং ECINET নিয়ে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি সম্মেলন হয়েছে। সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১১ সেপ্টেম্বর আহমেদাবাদে। সেখানে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের উদ্দেশে সিইসি বলেছিলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভোট ও গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা জরুরি।ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাবে সাধারণত নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া এবং কলেজের ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সি তরুণদের যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন ক্লাসের কার্যক্রম ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাঁদের ভোটার হিসেবে দায়িত্ব, ভোট দেওয়ার নিয়ম এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
উত্তরপ্রদেশে ভোটার সচেতনতার দুই অনুষ্ঠান স্থগিত, অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছল সিইসির জ্ঞানেশ কুমারের সফর
Popular Categories


