কেরালার প্রাক্তন মুখ্যসচিব জিজি থমসনের দাবি, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পাথানামথিট্টা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর দাবি, সেই সময় তিনি কেরালার মুখ্যসচিব পদে কর্মরত ছিলেন এবং অবসরের আগে দিল্লিগামী একটি বিমানে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর এই কথোপকথন হয়।
‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে থমসন বলেন, “এটি কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ছিল না, বরং একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছিল।” তাঁর কথায়, বিমানে জ্ঞানেশ কুমার তাঁর অবসর-পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। থমসন জানান, তাঁর তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই। তখনই তাঁকে বিজেপির হয়ে পাথানামথিট্টা থেকে নির্বাচনে লড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
থমসনের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে বলেছিলেন, তিনি ভালো বক্তা এবং রাজনীতিতে এলে তাঁর জয়ের সম্ভাবনাও যথেষ্ট। পাশাপাশি, তিনি যেহেতু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, তাই ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। সেই সময় কেরলে বিজেপি একজন খ্রিস্টান প্রার্থী খুঁজছিল বলেও নাকি উল্লেখ করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার।
তবে থমসন জানান, তিনি সেই পরামর্শ গ্রহণ করেননি। তাঁর কথায়, “আমি তাঁকে বলেছিলাম যে আমি খুব একটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী নই।”
২০১৫-১৬ সালের ওই কথোপকথনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর ফের বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন থমসন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের মন্তব্য কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক প্রস্তাব ছিল না, বরং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় দেওয়া একটি “বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ”।
এদিকে, কেরলে ইউডিএফ ক্ষমতায় ফিরলে তিনি কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পেতে পারেন—এমন জল্পনাও রয়েছে। যদিও থমসন জানিয়েছেন, তাঁর কাছে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর দাতব্য সংস্থা ‘ভাবিকা’। এই সংস্থার মাধ্যমে পড়ুয়াদের দক্ষতা ও মেধা বিকাশের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।


