ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা SIR ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এবার সরব হলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রোহিন্টন ফালি নারিম্যান। তাঁর অভিযোগ, ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটাধিকার হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেখায়নি শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাজকোটের রাজকুমার কলেজে ‘দ্য কনস্টিটিউশন অ্যান্ড দ্য কমন ম্যান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারিম্যান বলেন, দেশের নির্বাচন কমিশন এমন ভাবে চলতে পারে না, যাতে তার কাজকর্ম নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এত বড় সংখ্যক মানুষ ভোটের অধিকার হারালেও SIR বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের তরফে দেখা যায়নি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ আপিল করেছিলেন। সেই আবেদনের মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের দাবিই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই তথ্য সামনে রেখে নারিম্যান প্রশ্ন তোলেন, এত মানুষের নাম কী ভাবে ভুল ভাবে বাদ গেল এবং কেন তাঁদের এত বড় সংখ্যায় নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হল।
নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের বর্তমান ব্যবস্থাকেও তিনি ‘বিপদের সংকেত’ বলে উল্লেখ করেন। ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব বেড়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। এর আগে ‘অনুপ বরনওয়াল বনাম কেন্দ্র’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কথা বলেছিল। পরে নতুন আইনে সেই কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়।
নারিম্যানের মতে, কমিশনারদের কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে নিয়োগ ব্যবস্থাতেও ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। শুধু পদ থেকে সরানোর ক্ষেত্রে সুরক্ষা থাকলেই কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয় না। নিয়োগের সময়েই যদি সরকারের প্রভাব বেশি থাকে, তা হলে সেই স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সম্প্রতি দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের ভিতরে কোনও বিষয়ে মতবিরোধ থাকলে আইনে দেওয়া ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ভোটাধিকারকে দেশের গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন নারিম্যান। তাঁর আশা, সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজন হলে সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ করবে।


