দার্জিলিং জেলার বাগডোগরার কাছে গবাদি পশু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একদল লোকের হামলায় দুই মুসলিম যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাতে প্রায় আড়াইটে নাগাদ এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার বাসিন্দা শাহিদ আখতার এবং হরিয়ানার বাসিন্দা সাজ্জাদ মহম্মদ। হামলার পর ঘটনাস্থলেই শাহিদ আখতারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত সাজ্জাদ মহম্মদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলায় আহত তিনজন হলেন আমির সাত্তার, আকরাম খান এবং আরিফ খান। তাঁরা তিনজনই হরিয়ানার বাসিন্দা। আহতদের উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের সেখানে চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পাঁচজন একটি পিকআপ ভ্যানে করে এলাকায় ছিলেন। সেই সময় তাঁদের গবাদি পশু চুরির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলে একদল লোক। এরপর তাঁদের ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। হামলার একপর্যায়ে তাঁদের পিকআপ ভ্যানটিতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হামলার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তবে ৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এই ঘটনায় কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। হামলায় মোট কতজন জড়িত ছিল, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
গবাদি পশু চুরির অভিযোগে কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর বা হত্যা করার ঘটনা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত ছিল, তদন্তের পরই তা পরিষ্কার হবে।


